নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নাম, লোগো এবং কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। এডিবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ব্যক্তি পর্যায়ে তারা কখনো সরাসরি ঋণ, অনুদান বা আর্থিক সহায়তা দেয় না। তাই এ ধরনের কোনো প্রস্তাব প্রতারণার অংশ বলে বিবেচিত হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স টিম লিডার গোবিন্দ বর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি প্রতারক চক্র সংস্থাটির নাম, লোগো, কর্মকর্তাদের পরিচয় এবং অফিসের তথ্য ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট, ভুয়া ফেসবুক পেজ, জাল পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন প্রতারণামূলক উপকরণ তৈরি করছে। এসবের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভুয়া ঋণ ও আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, এডিবি কখনো কোনো ব্যক্তির কাছে সরাসরি ঋণ, অনুদান বা তহবিল প্রদান করে না। একই সঙ্গে আর্থিক সহায়তার নামে ব্যক্তিগত ব্যাংকিং তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বা কোনো ধরনের অর্থ জমা দেওয়ার অনুরোধও করে না।
এডিবি জনসাধারণকে এ ধরনের প্রলোভনমূলক বার্তা, ফোনকল, ই-মেইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যোগাযোগ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কেউ যদি এডিবির নামে ব্যক্তি পর্যায়ে ঋণ বা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়, তাহলে সেটিকে প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে এডিবি সরকার এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ায় উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে। ব্যক্তি পর্যায়ে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা বা ঋণ প্রদানের সঙ্গে এডিবির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এডিবি জানিয়েছে, সংস্থার নাম, কর্মকর্তাদের পরিচয় বা অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করে পরিচালিত যেকোনো প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে এডিবির প্রকাশিত সতর্কবার্তা ও পরামর্শ অনুসরণ করারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বর্তমানে ৬৯টি সদস্য দেশের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা। এর মধ্যে ৫০টি সদস্য দেশ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের। টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সদস্য দেশগুলোর সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি।
Posted ৩:২৬ পিএম | সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity